মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

অবশেষে প্রশানের নির্দেশে ভাঙ্গলো অবৈধ স্থাপনা ॥ বহাল রুস্তমের দখল

অবশেষে প্রশানের নির্দেশে ভাঙ্গলো অবৈধ স্থাপনা ॥ বহাল রুস্তমের দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক:: খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলাধীন হাতিমুড়া বাজারে রাতের আঁধারে সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে ১২টি প্লট ২৫ লক্ষ টাকা বিক্রির পর এবার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে জেলা পরিষদ কতৃক নির্মিত সরকারী সম্পত্তি যাত্রী ছাউনি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এ পর্যায়ে সেখানে দোকানের মত অস্থায়ী ভাবে প্লাষ্টিক দিয়ে দোকান নির্মান করা হয়।

অবশেষে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সে দখলে অভিযুক্ত ইব্রাহীম মীর ও তার অনুসারী জাহিদ,রিপনদের লোকজনদের দখল করা প্লট ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। তবে এখনো বহাল রয়েছে আরেক আওয়ামীলীগ নেতা রুস্তমের অবৈধ ভাবে দখল করা দোকান প্লট।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাতিমুড়া বাজারর রুস্তম আলী নামের আরেক দলীয় নেতার প্রভাবে ভিন্ন কৌশল অবলম্ভন করে আদা,হলুদ ও কচুর আরত করার নামে অবৈধ স্থাপনা করে জায়গা দখলে নেমেছে।

হাতিমুড়া বাজারের বটতলায় দীর্ঘ ২০ বছরের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলে চক্রটি। সে স্থানে আদা-হলুদ ও কচুর আড়ত হিসেবে ব্যবহারের জন্য অস্থায়ী প্লট নির্মান করে তা ভাড়াও অযুহাতে চলছে এ অবৈধ কর্মযজ্ঞ।

সরকারী নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সংশ্লিট কতৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রশাসনিক নিয়মকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে মহাসড়কের পাশে দিন-দুপুরে স্থাপিত পুরানো যাত্রীছাউনি ও ৩০ বছরের কালের স্বাক্ষী বট গাছটির বেশ কিছু ডাল-পালা কেটে ফেলা হয়। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া, এসময় বাজার সভাপতি ও হাফছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী এবিষয়ে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বাজার সভাপতিকে কারণ দর্শানো ও অবৈধভাবে নির্মিত প্লট ভাঙ্গার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারী স্থাপনা ভাঙ্গা ও অবৈধ প্লট নির্মানের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

হাতিমুড়া বাজার কমিটির সভাপতি ও হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাজার সভাপতি হওয়া স্বত্বেও বাজার সেক্রেটারি ইব্রাহীম মীর আমার সাথে কোনরুপ আলোচনা ছাড়াই সরকারী সম্পত্তি যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলে এবং দোকান প্লট নির্মান করে। এ জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

ঘটনার সাথে জড়িত ইব্রাহীম মীর জানান, আমি বাজার সেক্রেটারি, যাত্রীছাউনিটি অনেক পুরাতন তাই বাজারের উন্নয়নের স্বার্থে এটি ভেঙ্গে কাঁচামালের আড়ত তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত সরকারী স্থাপনা ভাঙ্গার বিষয়ে তিনি জানান, অনুমতি নেয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, যাত্রীছাউনিটি পুনরায় করে দেবেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাতিমুড়ায় চক্রটি একের পর এক সওজ’র জায়গা দখল,বাজারের জায়গা দখলসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলেও তাদেও বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে চক্রটি তাদের মারধরসহ নানা হয়রানি করে আসছে। এদের বিষয়ে আগে নানা মিডিয়ায় অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর তারা সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডণীয় অপরাধ।

Design & Developed BY Muktodhara Technology Ltd