বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

গুইমারার কুকিছড়ায় ‘বৌদ্ধ মুর্তি’ নির্মাণ কাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, গুইমারা:: গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম কুকিছড়ায় দুস্কৃতিকারী কর্তৃক ভেঙে ফেলা জেতবন বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ মূর্তির নির্মান কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বৌদ্ধমুর্তি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো: নওরোজ নিকোশিয়ার ও গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া।

এসময় বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতিসারা ভিক্ষু, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: গিয়াসুদ্দিন, গুইমারা সদর ইউপি চেযারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মেমং মারমা, হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান চাইথোয়াই চৌধুরী ও সিন্ধুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়া কার্বারী ও বিহারের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, নানামুখী অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বৌদ্ধমুর্তি নির্মান কাজের শুভসুচনা হলো। সরকারী অর্থায়নে একাজ শেষ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে এমন অপরাজনীতি সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পথে হুমকি স্বরূপ।সরকারী অর্থায়নে জেতবন বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধমুর্তি নির্মানকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের চোখেমুখে উচ্ছাস দেখা গেছে। বৌদ্ধমুর্তি নির্মান কাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু জ্যোতিসারা ভিক্ষু বলেন, যারা বৌদ্ধমুর্তিসহ বিহার ভাঙচুর করেছে তারা ধর্মবিরোধী। বৌদ্ধ মুর্তি নির্মান নিয়ে সব অপ-প্রচার মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। বৌদ্ধ মুর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনায় সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী গড়তে জানে, ভাঙতে জানেনা। সেনাবাহিনী আমাদের সব কাজে পাশে ছিল আগামীতেও পাশে থাকবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বাদ দিয়ে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য যে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পুর্ণিমার একদিন আগে গত সোমবার রাতের আঁধারে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলাধীন হাফছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম কুকিছড়া এলাকায় কতিপয় দুস্কৃতিকারীরা জেতবন বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুর করে। এসময় বিহারে রাখা ৭ ফুট উচ্চতার বৌদ্ধ মুর্তিটি ভেঙে পাশের খাদে ফেলে দেয়। এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ঘটনার একদিন পর বুধবার সরকারী অর্থায়নে বৌদ্ধ মুর্তি নির্মানসহ বৌদ্ধ বিহার পুন:নির্মাণের ঘোষণা দেয় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে, গুইমারা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন, এ ঘটনার পর-পর যে পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল তাহা সুষ্ঠ ও সঠিক ঘটনা কিছুটা হলেও অনুধাবনের জন্য সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের যথা যথ সহযোগিতা করার পরও গুইমারা উপজেলা প্রেসক্লাবসহ সকল সংবাদ কর্মীদের কর্মকান্ডে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কৃপনতা করা হয়েছে। তাহা খুবই দুঃখ জনক।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডণীয় অপরাধ।

Design & Developed BY Muktodhara Technology Ltd
error: Content is protected !!