সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
খাগড়াছড়ি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন সভাপতি মো: কাশেম,সম্পাদক মনির নেতৃত্বে আসছে কারা! খাগড়াছড়িতে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন চলছে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে বিডি ক্লিন পার্বত্য চুক্তির ২৩তম বর্ষপূর্তি পালিত হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তি পরিবহণ অবরোধ ও অফিসে অবস্থান ধর্মঘটের আল্টিমেটাম আনোয়ার হত্যা মামলায় আসামী জসিম এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যেগ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প খাগড়াছড়িতে জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার প্রতিবাদে গুইমারায় মানববন্ধন ও সমাবেশ দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার গুইমারার বড়পিলাকে প্রতিপক্ষের আতর্কিত হামলায় আহত-৮

কে হচ্ছে খাগড়াছড়ির নৌকার মাঝি

পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:: নির্বাচন সামনে। তাইতো খাগড়াছড়িতে দ্বন্ধ ও বিভক্তি ছাপিয়ে যোগ্য প্রার্থী চায় খাগড়াছড়িবাসী। নৌকা সমর্থকরা এখন সৎ ও কর্মীবান্ধন নেতাকে নমিনেশন দেবে এমনটা প্রত্যাশা নিয়ে দিন গুনছে। এবার ২৯৮ নং এ আসনে আওয়ামীলীগে রয়েছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী।

নয় উপজেলার ভোটার ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৬১ জন। তার মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১৪ হাজার ১শ ৯৯ ও পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৮শ ৬৯ জন। নতুন প্রজন্ম খাগড়াছড়ির নৌকার মাঝি হিসেবে প্রত্যাশা পুরানে যোগ্য ত্যাগী নেতা চায় পাহাড়ী এ জেলায়। তবে গত নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ লক্ষ ৮১হাজার ৫শ ১৬ জন। এবার তাতে প্রায় ৬০হাজার ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের মধ্যে যোগ্য,সর্মাধিত ও ত্যাগী কর্মী বান্ধন নেতা হিসেবে পরিচিত খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা, ক্লীন ইমেজের স্বচ্ছ মানোষিকতার নেতা নামে অখ্যায়িত সাবেক সংসদ সদস্য,টাক্সফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার নাম এখন মানুষের মুখে মূখে।

এছাড়াও আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে দৌড় ঝাঁপের তালিকায় বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর নাম শুনা যাচ্ছে। এর মধ্যে দলের বিভাজন ও উপজেলা,পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতা রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্যের। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও নিজেদের নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা দিয়ে দলকে আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের পথে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে রয়েছে সুভিধাবাদী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তারপরও উন্নয়নের মোটা অঙ্কের বরাদ্দে লুটপাট, ভাগ-ভাটোয়ারা অভিযোগ তাও পুরানো।

আওয়ামীলীগে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে খাগড়াছড়িতে মাঠে সতেজ ও জয়ের লক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সুযোগ নিতে মাঠে সক্রিয় ভাবে নীরবে কাজ করছে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ,জাতীয় পার্টিসহ জয় প্রত্যাশীরা দলগুলো। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই জটিল হয়ে উঠছে পাহাড়ের রাজনীতির সমিকরণ। খাগড়াছড়িতে দ্বন্ধের জেরে আওয়ামীলীগে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলেই পরাজয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামীলীগে সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বিভাজন নিরসনে কোন ভুমিকা পালন না করার অভিযোগও রয়েছে সাংসদের বিরুদ্ধে।

এ গ্রুপিং এর জালে বঞ্চিত, অবহেলীত ত্যাগী নেতাকর্মীদের পিষ্ট করে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাংসদ সদস্যের আধিপত্যে আওয়ামীলীগের ভোট কমেছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। যুব সমাজের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের একাদিক মামলা দিয়ে বেকায়দায় ফেলেছে নিজে দলের প্রভাবশালীরাই অভিযোগ নেতাকর্মীদের। দলের ষড়যন্ত্রকারীরাই আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে দৌঁড়ঝাপে ফলে নতুন করে কোন্দলের আশঙ্কা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাগড়াছড়ির গনমানুষের সেবা করতে প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে আওয়ামীলীগের দূসময়ের কান্ডারী অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা বলেন, জননেত্রীকে খাগড়াছড়ির আসনটি উপহার দিতে সকল জাতী ধর্মের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো। পাহাড়ে বর্তমান সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কারো অজানা নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সব কিছু বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে নৌকার জয় সু-নিশ্চিত।

এ সময় তিনি দল থেকে কোন ধরনের সুবিধা পাননি উল্লেখ করে বলেন, বাকীটা প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনা। দীর্ঘ এ রাজনৈতিক জীবনে কোন ধরণের সুযোগ তার ভাগ্যে আসেনি বলে এ সময় তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন সরকারের উন্নয়ন প্রচারনায় কাজ করে যাচ্ছি। নেত্রী যাকে প্রার্থী দেয় তার জন্যই কাজ করে যাবো।

প্রার্থীতার ব্যাপারে যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ২০০৮ সালে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমাকে ভরসা করে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আশানুরূপ ভোটে জয়ী হওয়ার পর তিনি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করার সুযোগও দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে আমি অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। আশা করছি আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবারও নৌকা প্রতীক দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিবেন।

বর্তমান সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন সেটি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। নেত্রী যাকে নৌকা প্রতীক দিবেন তার পক্ষে আমি ও আমার নেতৃত্বাধীন খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগ কাজ করবে। এছাড়াও আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে বিগত কয়েক মাস ধরে পাহাড়ের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নৈপথ্যে জাতীয় নির্বাচনের সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করেন রাজনীতিবীদরা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডণীয় অপরাধ।

Design & Developed BY Muktodhara Technology Ltd
error: Content is protected !!