মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে ১শ’টি বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া উপকরণ বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের চেক হস্তান্তর করলেন মহিলা এমপি বাসন্তী চাকমা এসএস ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার পেল শতাধিক পরিবার খাগড়াছড়ির এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে ৫২টি মসজিদ ও এতিমখানায় জেলা পরিষদের অর্থ উপহার নিহত নির্মাণ শ্রমিকের পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন অসহায় ১১০ পরিবারের মাঝে মাটিরাঙ্গা  কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির ত্রাণ বিতরণ মাটিরাঙ্গায় আনসার ভিডিপি সদস্যদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে হতদরিদ্র খাদিজার পাশে দাঁড়ালো ছাত্রলীগ নেতা গুইমারায় ৪৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যাবসায়ী আটক
প্রকৃতির অপরূপ রাণী খাগড়াছড়ি, পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে

প্রকৃতির অপরূপ রাণী খাগড়াছড়ি, পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে


নুরুল আলম
প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্য পাহাড় রাণী খাগড়াছড়ি। উচু নিচু অসংখ্য পাহাড় আর পাহাডের বুকে নাম জানা এবং না জানা নানা রকম গাছের সবুজ পাতার রঙে রঙে সজ্জিত পাহাড়কে মনে হয় যেন এক সবুজের অভয়ারণ্য। আঁকাবাঁকা উচু নিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুকচিরে কালো পিচের সর্পিল রাস্তা দিয়ে পথ চলতে চলতে পাহাড়ের অপরুপ সৌন্দর্য যে কোন পর্যটকের মন কাড়বেই। মাঝখানে সমতল ভুমি চার দিকে ঢেউ তোলা সূ-উচ্চ পাহাড়ের দেয়াল দিগন্ত ছোঁয়া সবুজের সমারোহ, চেংগী নদী ও পাহাড়ী ঝর্ণা সবাইকে যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
কথিত আছে বার আউলিয়ার দেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল। আর চট্টগ্রামেরই এক সময়ের অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির সবুজ অভয়ারণ্য। আউলিয়াদের অবাধ বিচরণ নানা রহস্যের প্রমান এখনো দেখা যায়। ১০০০ ফুট উচু পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড় ভেদ করা রহস্যময় সুড়ঙ্গপথ ১৩০০ ফুট উচু পাহাড়ের উপর দেবতা পুকুরে শীত-গ্রীষ্মে সমান পানি থাকা, ১৬০০ ফুট উচু পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুললে তা কঙ্কাল হয়ে যাওয়া, গ্যাস-পাথর, হাতির আকৃতির পাহাড়, জেলার এত সব আশ্চার্য্যজনক ঘটনা আজো আউলিয়াদের উপস্থিতির প্রমান মিলে।
খাগড়াছড়ির এতোসব রহস্যময় সৌন্দর্য দেখলে আপনার কাছে মনে হবে এ যেন এক রূপকথার স্বপ্নপুরী। যেখানে দৈত্যরা রাজকুমারীকে ঘুমপাড়াতো সোনা আর রুপার কাঠি দিয়ে। তাছাড়া যেখানে আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, পাহাড়ের বুকভেদ করে উঠেছে পূর্ণিমার চাঁদ। তা দেখতে হলে তো আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে খাগড়াছড়িতে। খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য কিছু পর্যটন স্পটের বর্ণানা ভ্রমণ পিপাসু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ বা গুহা:
দৈনিক দিনকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজায়ান সিদ্দিক গত শীতকালীন মৌসুমি ঘুরতে এসে তার সাথে ছিল সাংবাদিক নুরুল আলমসহ অন্যান্য ভ্রমনকারী। গা ছম ছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ী সুরঙ্গ পথ বেয়ে পাতালে নেমে যাওয়া কল্পনার হলেও আলুটিলার সুরঙ্গ কল্পনার কিছু নয়। পাহাড়ের পাদদেশ বেয়ে গুহার মুখ পর্যন্ত যেতে দর্শনার্থীদের এক সময় খুব কষ্ট হলেও এখন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে পাকা সিঁড়ি করে দেয়া হয়েছে। পাহাড়ের চুড়া থেকে ২৬৬টি সিড়িঁ বেয়ে নিচে নেমেই সেই স্বপ্নীল গুহামুখ। আলুটিলা সুরঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। জমকালো অন্ধকার এ গুহায় আগুনের মশাল নিয়া ঢুকতে হয় কিছুটা সাহস নিয়েই। গুহায় আলো আধাঁরীর মাখামাখিতে এক অপরূপ দৃশ্যের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে। ভেতরে বাদুর ঝুলে থাকা, অবিরাম বয়ে চলা হিম শীতল ঝরনার স¦চ্ছ পানির ঝিরঝির শিরশির ছন্দের শব্দ। অনবদ্য রহস্যের উৎস প্রাকৃতিক এ সুরঙ্গের ভেতরটা দেখলে অবিশ্বাস্য বিস্ময়ে মন হতবাক হয়ে যায়। মনে হয় যেন নিখুঁতভাবে ছেনি দিয়ে পাহাড় কেটে কয়েক হাজার দক্ষ কারিগর এ গুহাটি তৈরি করেছে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের ভেতর এই রহস্যময় সুরঙ্গ গুহাটির অবস্থান।
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র:
গত ডিসেম্বর মাসে ২০১৮ ইং সালে দৈনিক দিনকাল পত্রিকা সহকারী বার্তা সম্পাদক লিপি সরকার ও তার এক ছেলে ও স্বামী সহ খাগড়াছড়ি পর্যটন এবং সাজেক ঘুরে এসে সড়ক ও জনপদ রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেন। সৌন্দর্য্যের ঐশ্বর্যময় অহংকার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ আলুটিলা। জেলা সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে উচু পাহাড়ে অবস্থিত এ আলুটিলা। প্রায় হাজার ফুট উঁচু এ ভূ-নন্দন স্থানটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের বসার জন্য পাকা বেঞ্চ, বিশ্রামের জন্য পাকা ছাউনী, পর্যবেক্ষন টাওয়ার ইত্যাদি করা হয়েছে। এক টিলার মাথায় দাঁড়ালে জেলা শহরের ভবনগুলোকে ছোটছোট কুড়ে ঘরের মত দেখায়। বৃক্ষ শোভিত পাহাড়, আঁকাবাকা পাহাড়ি চেঙ্গী নদীর প্রবাহ ও আকাশের আল্পনা মনকে অপার্থিব মুগ্ধতায় ভরে তোলে। চোখে পড়ে আঁকা বাঁকা উচুঁ নিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে ইটের রাস্তা। পাহাড়ী জুমিয়াদের ছোট ছোট মাচার তৈরী জুমঘর। আলোক নবগ্রহ ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার আর সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি চমৎকার ডাক বাংলোও রয়েছে এখানে। প্রাকৃতিক নৈসর্গের এ স্থানটিকে আরো আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে এখানে ইকো-পার্ক স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আলুটিলা থেকে দেখা যায় নয়নাভিরাম খাগড়াছড়ি শহরকে এ যেন স্বপ্নের দার্জিলিং।

আলুটিলার রিচাং ঝর্ণা (মারমা ভাষা) :
জেলা সদর থেকে আলুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থলের দুরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১ কিলোমিটার। ঝর্ণার সমগ্র যাত্রা পথটাই দারুণ রোমাঞ্চকর। এটি রিচাং ঝর্ণা নামে পরিচিত। দূরের উঁচু-নীচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামহীন রঙ্গীন বুনো ফুল-এসব নয়নাভিরাম অফুরন্ত সৌন্দর্য যে কাউকে অন্য এক কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায়। ঝর্ণার কাছে গেলে পবিত্র স্নিগ্ধতায় দেহ-মন ভরে ওঠে। হাজার ফুট উঁচু থেকে নেমে আসা স্ফটিক-স্বচ্ছ জলরাশি নির্ঝরের স্বপ্নের মত অবিরাম প্রবহমান। প্রতিদিন দেশে-বিদেশের শত শত পর্যটক আসেন এ ঝর্ণা দেখতে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডণীয় অপরাধ।

Design & Developed BY Muktodhara Technology Ltd