পাহাড়ের নেতৃত্বে শতরূপা চাকমা’কে সংসদে চান নারী নেত্রীরা

Spread the love

সংরক্ষিত আসন

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি:: জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে পাহাড়ের নারী নেতৃত্ব নিয়ে শেষ নেই জল্পনা-কল্পনা আর হিসাব নিকাশের। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে কে হচ্ছে সংরক্ষিত আসনে পার্বত্য তিন জেলার নারী নেতত্বে অভিভাবক তা নিয়ে নারী নেত্রীদের রয়েছে নানা অভিমত। যোগ্য ও অসাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের অধিকারী মন্তব্য করে শতরূপা চাকমাকেই নৌকার টিকেট দেওয়া হবে এমটাই প্রত্যাশা করছেন পাহাড়ে নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করা বেশ কয়েকজন নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

শতরূপা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। তিনি আওয়ামীলীগের ত্যাগী হিসেবে পরীক্ষিত সৈনিক। গতবারও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা সংরক্ষিত আসনে নারী এমপি হিসেবে প্রার্থী ছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্তে রাঙ্গামাটির ফিরোজা বেগম চিনুকে এমপি করা হয়।

একাদিক নারী নেত্রীর দাবী এবার খাগড়াছড়ি থেকে সংরক্ষিত আসনে শতরুপা চাকমাকে এমপি দেখতে চায় পার্বত্য জনপদের মানুষ। খাগড়াছড়িবাসীসহ নারী নেত্রীদের দাবী এ জেলা থেকে এমপি প্রত্যাশীদের মধ্যে পাহাড়ে নারী অধিকার আদায়ে উদ্যোগী,নারী ক্ষমতায়ন,কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর জীবনমান উন্নয়ন,অসা¤প্রদায়িক নেতৃত্বে শতরূপা চাকমার বিকল্প নেই। তিনি পাহাড়ী-বাঙ্গালীর জন্য সম উন্নয়নের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গমাটি, বান্দরবান জেলার নারীদের এগিয়ে নিতে কাজ করতে সক্ষম হবে।

৩ জেলায় সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুসহ এবার লড়ছেন নতুন-পুরনো প্রায় ১৭ জন নারী। সংরক্ষিত আসনে নারী জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়ে খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন শেফালীকা ত্রিপুরা ও নারী নেত্রী নমিতা চাকমা বলেন, নারী জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য শতরূপা চাকমা যোগ্য। কারণ সে পড়া-লেখা শেষ করে বিভিন্ন এনজিও’র সাথে কাজ করেছে এবং নারীর অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন। জনপ্রতিনিধিত্বের দক্ষতা অর্জনসহ তার রয়েছে তৃনমুলে মানুষের পাশে থেকে কাজ অভিজ্ঞতা। এছাড়াও সে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত উদ্যমী ও চ্যালেঞ্জিং ভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করে নারী নেত্রীরা বলেন-পাহাড়ের সচেতনমহল ও সকলে শতরূপ চাকমাকে সংরক্ষিত আসনে নারী এমপি হিসেবে দেখতে চায়।

নারী নেত্রী শাপলা ত্রিপুরা বলেন, পূর্বে বান্দরবান,কক্সবাজার ও রাঙ্গামাটির নারীরা নেতৃত্বের সুযোগ পেয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার খাগড়াছড়ির একজন নারী সংসদে প্রতিনিধিত্বে প্রাধান্য দেওয়া হবে এমনটা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন
সংরক্ষিত আসনে খাগড়াছড়ির একজন নারী নেতৃত্ব দেখতে চায় মানুষ। নারীদের অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় খাগড়াছড়ির নারীকে নেতৃত্বের সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবী জানান তিনি।

দীঘিনালা উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সম্পাদিকা মাহমুদা বেগম লাখী বলেন, ৩ পার্বত্য জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ির শতরূপা চাকমা এক অসাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের নাম। তিনি নেতৃত্বের সুযোগ পেলে বাঁধাহীন ভাবে এগিয়ে যাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় নৌকার ¯্রােতধারা তরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করে মাহমুদা বলেন, শতরূপা চাকমা এখানকার মানুষের পাশে থেকে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার কাছে পাহাড়ী-বাঙ্গালী কোন ভোদাভেদ নেই। তাই তিনি এমপি হলে নারী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখাসহ ৩ পার্বত্য জেলায় সমানভাবে সকল সম্প্রদায়ের নারীরা অগ্রাধিকার পাবে এবং উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাহাড়ের সকল ভাষাভাষীর মানুষের স¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রেখে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পিছিয়ে পড়া নারীদের শিক্ষার প্রসার,সমাজিক-অর্থনৈতিক ভাবে দারিদ্র দুরীকরণ,অবহেলিত,বঞ্চিতদের জন্য এমপি হলে বিশেষ উদ্যোগ নিবেন বলে জানান সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি পদ প্রত্যাশী শতরূপা চাকমা।

শতরূপা চাকমা, ১৯৮৮ সালে কুমিল্লা বোর্ড থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি ও ১৯৯০ সালে এইচ.এস.সি,১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে বি,এ ও ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় থেকে ২য় বিভাগে এম,এ (ইতিহাস) পাস করেন। এর পর ১৯৯৯ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন এনজিও-উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত থেকে সংসারের হালধরার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব,বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন ও সক্রিয় ভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে শতরূপা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারের ভিশন ২০-২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Specify Facebook App ID and Secret in Super Socializer > Social Login section in admin panel for Facebook Login to work

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*