উপজাতী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবেদন

Spread the love

ডেস্ক নিউজ:: খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে গত ১ বছরের মাথায় উল্ল্যেখযোগ্য সংগঠিত উপজাতী সন্ত্রাসী কর্তৃক হত্যাকান্ডের প্রতিরোদ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের আটকসহ সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদক।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা সদরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন পানছড়ি সদরের বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পানছড়ি বাজারের প্রধান সড়কে হাদিস মিয়ার চা দোকানে বন্ধুদের সাথে চা পান করার সময় অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। তার বাম হাত ও পিঠে গুলি লাগে। এটি ছররা গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত নাজির হোসেনকে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
খাগড়াছড়ির সদর উপজেলার জিরো মাইল এলাকার এক পাহাড় থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে সদর থানার পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে বলে খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে ও এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় খাগড়াছড়িতে যৌথ চিরুনী অভিযান শুরু হয়েছে।
জেলার সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলো টার্গেট করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। আধিপত্য বিস্তারের জেরে গেল খাগড়াছড়িতে স্বনিভর বাজারে বিবদমান দুই পাহাড়ি গ্রুপের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে ৭জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও দীঘিনালায় নিরাপত্তা বাহিনীর আলাদা অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়. চাঁদাবাজির উদ্দেশে অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনাবহিনীর সদস্য পানছড়ি উপজেলার পুজগাং এলাকায় অবস্থান নেয়। সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পরে সেনাবাহিনীর সদস্য আশ-পাশে তল্লাসী করে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ উদ্বার করে এবং ব্যাগের ভিতর থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি এলজি উদ্ধার করে।
মহালছড়ি ও দীঘিনালার পর এবার খাগড়াছগিতে যৌথবাহিনীর সফল অভিযান হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৪ মাইল নামক স্থানে যৌথবাহিনী একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে। ইউপিডিএফ প্রসীত বাহিনীর একটি সশস্ত্র চাঁদাবাজ দল ওই স্থানে একটি পাহাড়ের উপর অবস্থান করছে বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

যৌথবাহিনীর আকষ্মিক আক্রমনে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশী পিস্তল, ৬রাউন্ড পিস্তলের এ্যামুনিশন ও ম্যাগাজিন এবং ৩ রাউন্ড কার্তুজসহ একটি এলজি, চাঁদা আদায়ের রশীদ, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সন্ত্রাসী হামলায় ৭ জন নিহতের পর সন্ত্রাস নির্মূলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে খাগড়াছড়িতে সহস্ত্রাধিক সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর চিরুনী চলছে। খাগড়াছড়ি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
আধিপত্য বিস্তারের জেরে খাগড়াছড়ির স্বর্নিভর বাজারে বিবদমান দুই পাহাড়ি গ্রুপের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুক যুদ্ধে ৬ জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, স্বনিভর বাজারের বিবদমান দুই পাহাড়ি সংগঠনের মধ্যে প্রচন্ড গুলিবিনিময় শুরু হয়। ভারী অস্ত্রের গুলির আওয়াজে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। আতংকে এলাকা ছেড়ে লোকজন পালিয়ে যায়।
এ সময় সন্ত্রাসীরা স্বনির্ভর বাজারে অবস্থিত পুলিশ বক্সে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি লাশ উদ্ধার করে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আরো দুইজন মারা যায়।
অপহৃত চার গ্রামবাসীর মুক্তির দাবীতে তারা রাস্তায় আন্দোলন করছে। তবে অধিকাংশই মুখোশপড়া, হাতে দা, রড, গুলতি, লোহার পাইপ, কাঠের চ্যালা ও দেশীয় অস্ত্র। খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়া এলাকা থেকে চারজনকে অপহরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ ইউপিডিএফ(প্রসীত) গ্রুপের।
অপহৃত খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার তিন বাঙালি ব্যবসায়ীসহ গত কয়েক বছরে নিখোঁজ ২৮ বাঙালিকে উদ্ধার, পাহাড়ি সংগঠনগুলোর অব্যাহত চাঁদাবাজী, খুন ও গুম বন্ধসহ ৮ দফা দাবিতে খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালি ছাত্র পরিষদ।
খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে আগামী ২৪ জুলাই খাগড়াছড়ি মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচী ঘোষণার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। খাগড়াছড়ি আলুটিলায় জ্ঞানেন্দু চাকমা (৪০) নামে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের এক কালেক্টরকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের আলুটিলা পর্যটন এলাকায় এ হত্যাকান্ড ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে রেখেছে।
এ ঘটনায় ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমা এ হত্যাকান্ডের জন্য জেএসএস (এমএন) গ্রুপকে দায়ী করে তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে জানান, জ্ঞানেন্দু চাকমা তার সহকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক গণসংযোগ করছিলো। এ সময় সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে ব্রাশ ফায়ার করলে গায়ে গুলি লেগে সে মারা যায়। পরে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।
খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র প্রসীত গ্রুপের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ও বিপুল সরঞ্জামসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।
জেলা সদরের গিরিফুল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ’র প্রসীতের সশস্ত্র গ্রুপের একটি বৈঠক চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী গিরিফুল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযান টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
পাহাড়ি সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার লড়াইয়ে সবুজ পাহাড় রক্তাক্ত হচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘন্টা ব্যবধানে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে একজন জনপ্রতিনিধি ও অপর এক আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ ৬জনের নির্মম মৃত্যুতে পাহাড় জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে কাঠ ক্রয় করতে গিয়ে নিখোঁজ তিন বাঙ্গালী যুবকদের উদ্ধারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্রপরিষদ। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের চেঙ্গিস্কয়ারে এ মানববন্ধন করে ছাত্র পরিষদ। নিখোঁজ যুবকদের উদ্ধারে প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয় মানববন্ধনে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা। মিছিলকারীরা শহরের শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চেঙ্গিস্কয়ার এসে মিছিলের সমাপ্ত করে।
খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর জোনের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল এলাকার সদর উপজেলার খাগড়াছড়ি – দিঘীনালা সড়কের গণেশ টিলা এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করতে যায়। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী নিরাপত্তা বাহিনীকে জানায় দীর্ঘদিন অত্র এলাকায় আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের একটি দল চাঁদার দাবীতে হুমকি দিয়ে আসছে।
খাগড়াছড়ির সদরের পুনর্বাসন এলাকায় চার ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গণধোলাই দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছেন বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী। জেলা সদরের ওচাই পাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রামবাসী তাদের ধরে গণধোলাই দেয়। সন্ধ্যায় নিরাপত্তা বাহিনী খবর পেয়ে গুরতর আহতাবস্থায় সন্ত্রাসীদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আটককৃতরা হলো, মিশন ত্রিপুরা, রূপক বড়–য়া, রবি জয় চাকমা ও অনুপম চাকমা। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি দেশীয় তৈরী পিস্তল, চার রাউন্ড এলজির গুলি ১০ রাউন্ড, একে ২২ রাইফেলের তাজা গুলি, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক প্রদীপময় চাকমা ওরফে বিশাল চাকমাকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, গোপন সংবাদের জেলার ভাইবোনছড়া এলাকায় সিএনজি তল্লাসী করে ইউপিডিএফ’র এ শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রদীপময় চাকমাকে আটক করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রাত সোয়া ১০টার দিকে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ঐ এলাকা থেকে এক রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Specify Facebook App ID and Secret in Super Socializer > Social Login section in admin panel for Facebook Login to work

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*