নবীন-প্রবীনের নেতৃত্বের গুঞ্জন

Spread the love

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি:: দীর্ঘ সাত বছর পর খাগড়াছড়িতে জেলা আওয়ামী লীগের বহুল প্রত্যাশিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবার জেলা আওয়ামীলীগের পদে বড় ধরনের পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। চলছে নানা জল্পনা-কল্পনাও। সংগঠনের স্বার্থে ক্রমশ তরুণদের প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠছে। কারন দলের দু:সময়ের সাংগঠনিক কর্মকান্ডে তরুণদের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আগ্রহী মনোভাব ও শক্তিশালী নেতৃত্ব ইতি মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

আগামী ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলের আগেই খাগড়াছড়ি আ’লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী। পাশাপাশি সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরো সু-সংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

গণতান্ত্রিক ভাবে নয় উপজেলার মত ভোটাভোটিতে কাউন্সিলের ইঙ্গিত দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন ইতিমধ্যে চারটি উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে দীঘিনালা উপজেলা ছাড়া পানছড়ি,মহালছড়ি উপজেলার কাউন্সিলে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতায় পরিবর্তন এসেছে নেতৃত্বে। মানিকছড়িতে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় কাউন্সিল উপজেলা চেয়ারম্যান মো: জয়নাল আবেদীন ও সম্পাদক মো: মাঈন উদ্দিন ও পানছড়ি উপজেলায় নানা আলোচনার-সমালোচনার মধ্য দিয়ে কাউন্সিল শেষ হয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদর, মাটিরাঙা,রামগড়,লক্ষীছড়ি,গুইমারা উপজেলাতেও ভোটাভোটির মাধ্যমে উপজেলা কাউন্সিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের এ নেতা। এ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের তৃণমুল নেতাকর্মীদের মধ্যে তরুণদের নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিতটা বেশি। জেলা আওয়ামী লীগের অধিকাংশই নেতারাই বয়োবৃদ্ধ তাই কাজের গতি বাড়াতে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়াটা জরুরী বলে মনে করেন রাজনৈতিক নেতারা।

আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযানের কথা মাথায় রেখে আগামী জেলা কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব বাছাইসহ আরো গতিশীল করা হবে বলে জানান খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের প্রবীন রাজনীতিবিদ ও দলটির শীর্ষ নেতা রণ বিক্রম ত্রিপুরা।

এদিকে যোগ্য ও মেধাবীদের নেতৃত্বের প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বেশ মনোযোগী এবং জেলার নয়টি উপজেলায় নেতৃত্ব সংগঠিত করার উদ্যোগ নিয়েও তিনি স্বোচ্ছার রয়েছে বলে শীর্ষ নেতারা জানান।

তবে এবারের কাউন্সিলে প্রবীন রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনেকেই থাকলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছাড়াও সিনিয়রদের মধ্যে দলের দীর্ঘ সময়ের ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী,সাংগঠনিক সম্পাদক এম. এ. জব্বার ও এড. আশুতোষ চাকমার নাম ঘুর ফাক খাচ্ছে।

তবে সংগঠনটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সবকটির কমিটির মেয়াদ চলে গেছে অনেক আগেই। ফলে এই সংগঠনগুলোর সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে বিরাজ করছে বিদায় আমেজ। দলের জেলা কমিটির ৭৫ সদস্য এবং ২১জন উপদেষ্টার বেশিরভাগই নিস্ক্রিয়।

তবে দলকে নেতৃত্বের মাঠে শক্ত অবস্থানে ছিল দলের হালধরা নেতা মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, মো. দিদারুল আলম দিদার, জুয়েল চাকমা, পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল। বুদ্ধি বিবেচনা ও সাংগঠনিক দক্ষতায়ও তাঁরা বেশ এগিয়ে।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের আগামী জেলা সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সভাপতি ও সভাপতি পদে যদি এমপি কুজেন্দ্র লাল লাল ত্রিপুরা অনাগ্রহী কিংবা কাউকে ছাড় দেন তবে প্রার্থী হতে পারেন, সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা,বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা এবং অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা।

সাধারণ সম্পাদক পদে কৌশলগত ভাবে প্রকাশ্যে না আসলেও ঘুরে ফিরে নাম শুনা যাচ্ছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম. এ. জব্বার, মাটিরাঙ্গা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শামছুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার’র নাম।

সাধারণ সম্পাদক পদে ইতি মধ্যে দুই তরুণ নেতার নাম সব চেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে তারা হচ্ছেন, মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু ও দিদারুল আলম দিদার। দল বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রশাসনে এই দুই জনের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা দৃশ্যমান। এবার তাদের দুইজনই জেলা আওয়ামী লীগের ভালো পদে আসীন হবে এমনটায় প্রত্যাশা দলীয় নেতাকর্মীদের।

জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, সম্পাদক পদে নতুন যোগ্য প্রাপ্তি এলে জায়গা করে দেওয়ার ব্যাপারটা মাথায় রেখে কাজ করছি। কারণ বড় দল হিসেবে দীর্ঘ সময় টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে তারুণ ও নেতৃত্বের পালা বদলের সময় এসেছে। তার দাবী, বর্তমান সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, নেতৃত্বের প্রয়োজনে আসন্ন জেলা কাউন্সিলে গণতান্ত্রিক ভাবেই কাউন্সিলরদের ভোটেই নির্বাচন হবে। কারণ এটি তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা। সে অনুসারে এ দাবির প্রতি অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, দলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের চাওয়ায় আমার চাওয়া। দলকে সু-সংগঠিত করতে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব যোগ্যতা যাছাই ও নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পুরণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে দলের হাল ধরে রাখতে হলে কর্মী বান্ধন নেতার প্রয়োজনীয়তা সকলকে অনুধাবন করা জরুরী বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

খাগড়াছড়ির দুইবারের এমপি ও জেলা সভাপতি কৃজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র নির্বাচিত হওয়া রাজনীতির বয়স দুই দশকের অধিক। বিগত ‘২০০১ থেকে ২০০৫ সাল’ পর্যন্ত বিএনপি-জামাত শাসন করে। সেসময় তিনি সর্বশক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসীন হন। তিনি একবার পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়া ছাড়াও তিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদায় শরণার্থী টাস্কফোর্স-এর চেয়ারম্যান।

তিনি জানান, আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের প্রতি আমরাও শ্রদ্ধাশীল। তাই আসন্ন জেলা কাউন্সিলে দলের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে বড় ধরনের ত্যাগেও তিনি প্রস্তুত বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি আরো বলেন, দল ভালো নেতার নেতত্বেই সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা ভালো থাকবেন।

Leave a Reply

Specify Facebook App ID and Secret in Super Socializer > Social Login section in admin panel for Facebook Login to work

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*