বুধবার, ২৩ Jun ২০২১, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

মানিকছড়িতে প্রতারনার মাধ্যমে ভুমি দখল ও গাছপালা কাটার অভিযোগ

মানিকছড়িতে প্রতারনার মাধ্যমে ভুমি দখল ও গাছপালা কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকার প্রতারনার মাধ্যমে ভুমি দখল ও গাছপালা কাটার অভিযোগ এক শ্রেণীর দুষ্টচক্র আদালতের রায় অমান্য করে জোর করে ভুমি দখল ও নানান ভাবে এক পরিবারের রেকর্ডিয় জায়গা দখল ও হয়রানির করে চলেছে। চক্রটি একেক সময় একেক ঘটনার সৃষ্টি করে জমির মালিককে বিভিন্ন ভাবে হামলা,মামলা করে হয়রানি করে আসছে।

মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী মধ্যপাড়ার ভুক্তভোগী ছিদ্দিক আহাম্মদের ছেলে শাহ আলম ও আবু তালেব জানান, ৪৮নং হোল্ডিং এর ৩ দাগে মোট ৫ একর (৫২৯২ দাগে ৩.৩২ একর, ৫২৯০ দাগে ০.৬৮ একর, ৫৫৪০ দাগে ১ একর টিলা ভুমির আংশিক এছাড়া ৫৫৪০ দাগের জমিতে এরশাদ মিয়া, সেলিম মিস্ত্রী অবৈধ ভাবে দখল করে আছে। তারা কোন প্রকার কাগজ পত্র ছাড়াই আমাদের জায়গা গায়ের জোর দেখিয়ে জবর দখল করে রেখেছে।
দিনের পর দিন ভেঁজাল সৃষ্টিসহ বিরোধের মাধ্যমে হয়রানী করায় তাদের কাজ। একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র মিলে এই জায়গা দখলের পায়তারা করে আসলেও যেন দেখার কেউ নেই।
শাহিন,শাহজাহান,মঙ্গল মিয়া নামের কয়েকজন মিলে আদালতের দেওয়া উচ্ছেদের চুড়ান্ত রায় কে অমান্য করে দেশের প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে জোর পূর্বক আমাদের জমি একেক সময় একেক ভাবে ভাড়া করা সন্ত্রাস নিয়ে দখল, পিলার এবং ৫০৫ নং হোল্ডিং এ ৩.৫০ একর ভুমি হতে আংশিক জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছে।

এরশাদ মিয়াকে অস্থায়ী ভাবে আমাদের ৪৮ নং হোল্ডিং এর জায়গায় কিছুদিন বসবাসের জন্য দিলে তা নিয়ে আমাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে ইতিপূর্বে একাধিক বার বিরোধ না করার অঙ্গিকার দিলেও তা ভঙ্গ করে গাছপালা কেটে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়।

অপরদিকে শাহিন,শাহজাহান,মঙ্গল মিয়া জয়নাল আবেদিনের দোহায় দিয়ে জায়গায় অবৈধ ভাবে দখলে থেকে আমাদের সৃজন কৃত গাছপালা কেটে দাঙ্গা সৃষ্টি করেছে।এবং সেলিম মিয়া আংশিক ৪৮ হোল্ডিং ও ৫৫৪০ দাগের এবং চট্টগ্রাম বিভাগিয় কমিশনার ও হাইকোর্টের চুড়ান্ত রায়ে প্রাপ্ত আমাদের জায়গায় অবৈধ দখলে আছে।
উক্ত জায়গা ছিদ্দিক আহাম্মদের বন্দোবন্তি মামলা নং- ২৪০৮/৬৬-৬৭ এ ৩.৫০ একর আবেদনে থাকলেও ২২/৭২ আদেশ কালীন সময় রাইটিং এর ভুলের কারনে ২.৫ একর ৩য় শ্রেনীর টিলা ভুমি এবং ১ একর ২য় শ্রেনীর ভুমি মুলে চট্টগ্রাম বিভাগিয় কমিশনার ও হাইকোর্টের চুড়ান্ত রায়ে প্রাপ্তির পর আমিন কানুনগো জমি পরিমাপ কালে রিপোর্ট দেওয়ার সময় ২.৯২ একর এর মধ্যে টিলা ভুমি ১.৯২ একর এবং ২য় শ্রেনীর ভুমি ১ একর পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়াও ১৬৮ নং খতিয়ানে ৩.৯৫ রেকর্ড ভুক্ত আছে। বর্তমানে সেলিম ৫৫৪০ নং দাগে হাই কোর্টের ২য় দাগের ১.৯২ একর দাগের কিছু অংশের অবৈধ দখলে থাকলেও সে স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে যাওয়ার প্রতিশ্রƒতি দেয়।

শাহিন শাহজাহান ও মঙ্গল মিয়া জয়নালের দোহায় দিয়ে ৫৫৪০ দাগে অবৈধ দখলে থাকলে জয়নাল আবেদিন জীবিত থাকাকালীন আদালতে অবৈধ দখল ছেড়ে দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় যা ২৪/৯৪ দেওয়ানী মামলার রায়ে উল্লেখ আছে।

৫২৯২ নং দাগে ফজর আলী ৩০১ হোল্ডিং এর ১৯৮০-৮১ বন্দোবস্তী মুলে দখলে আছে বলে দাবী করলেও তার পূর্বে ৪৮ নং হোল্ডিং ১৯৭৪-৭৫ মুলে বন্দোবস্তী পায় ছিদ্দিক আহম্মদ। আবেদন প্রেক্ষিতে ওয়ারিশ সুত্রে যার মালিক নরুƒল আলম, শাহ আলম ও আবু তালেব ।

২২/৭২ চট্টগ্রাম বিভাগিয় কমিশনার ও হাইকোর্টের চুড়ান্ত রায়ে প্রাপ্ত জায়গার আংশিক অংগ্য দেওয়ান (বর্তমানে তার ছেলেরা) অবৈধ দখলে আছে। এবং আব্দুর রহিম ৫০৫ হোল্ডিং এর ৫৭৫৪ দাগের জায়গা আংশিক অবৈধ দখলে আছে।

অবৈধ দখলদারদের ৫২/০৩ সীমানা পরিচিহ্ন মামলা, জারী মামলা ৫৪/২০০৩ এবং দেওয়ানী মামলা ২৪/৯৪ এর ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ রায় অনুযায়ী ১ মাসের মধ্যে অবৈধ দখল ছেড়ে দিতে বললেও তারা দখল না ছাড়ায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে উচ্ছেদ কার্যকরের নির্দেশ দেয় বিজ্ঞ আদালত।

অপরদিকে যেভাবে দখলের চেষ্টায় লিপ্ত চক্রটি: গত ১৮ মার্চ ২০২১ সকালে এরশাদ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন লোকজন নিয়ে ছিদ্দিক আহাম্মদের ছেলে শাহ আলম ও আবু তালেব গংদের নামীয় জায়গা হইতে ০৩ (তিন) টি চাপালিশ গাছের মধ্যে ০১ টি কেটে ফেলে এবং অপর দুইটি কাটার জন্য প্রস্ততি নিলে তারা দেখতে পেয়ে এরশাদ মিয়াকে তা কাঁটতে বাঁধা দিলে বাধা অমান্য করে। পরে তৎক্ষণিক ৯৯৯-এ কল দিলে মানিকছড়ি থানার কর্তব্যরত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এ ব্যাপারে মানিকছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়। যা বর্তমান মানিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) এর দায়িত্বে আছে।

শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অন্য লোকের প্ররচণায় ভুয়া কাগজ পত্র সহ এরশাদ মিয়া মানিকছড়ি উপজেলা কার্যালয়ে নির্বাহী অফিসারকে লিখিত দরখাস্ত দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে,মানিকছড়ি উপজেলা কার্যালয় থেকে ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার শাহজাহান সরকারসহ কয়েকজন লোক আদালতের পুর্বের রায় অমান্য করে না জানিয়ে শাহ আলম ও আবু তালেব গংদের জায়গা মাপার জন্য যায়। তৎক্ষনিক ভুক্তভোগীরা সাংবাদিক নুরুল আলমকে জানালে তিনি দ্রুত খাগড়াছড়ি থেকে মানিকছড়ি উপজেলা ভুমি অফিস কার্যালয়ে উপস্থিত হলে সার্ভেয়ার এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে না পেলে পূর্বের চুড়ান্ত ভুমি সংক্রান্ত রায়ের কপিসহ একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

পরবর্তিতে শাহজাহান সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এরশাদ নামক ব্যাক্তির দেওয়া লিখিত দরখাস্তের আলোকে তিনি উক্ত স্থান পরিদর্শনে যান। তখন জানতে পারেন তা ছিদ্দিক আহাম্মদের ছেলে শাহ আলম গং দের ৪৮ নং হোল্ডিং এর ৩ দাগে(৫২৯২ দাগে ৩.৩২ একর, ৫২৯০ দাগে ০.৬৮ একর) মোট ৫ একর এবং ৫৫৪০ দাগে ১ একর এবং ৫৫৪০ দাগে ১.৯২ একর টিলা ভুমি চট্টগ্রাম বিভাগিয় কমিশনার ও হাইকোর্টের চুড়ান্ত রায়ে বন্দোবস্তী মামলা ২৪০৮/৬৬-৬৭ এর ২২/৭২ রায় প্রাপ্ত।

শাহ আলম ও আবু তালেব জানান, আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে ভুমি দখল করার চেষ্টা করলে ইন্দনদাতা সহ ভুয়া কাগজ লিখে যত্রতত্র অভিযোগ করে হয়রানি এবং দেওয়ানী ২১ নিয়ম ১১ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা আইনত দন্ডণীয় অপরাধ।

Design & Developed BY Muktodhara Technology Ltd