“অপরাধের আতুরঘর গুইমারা”

Reporter Name

বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ

অবৈধ বালু উত্তোলন,ফুটপাত দখল,পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রয়,পাহাড় কাটা,ফসলি জমির টপ সয়েল বেঁচাকেনার হিড়িক,আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী

নুরুল আলম:: অনিয়মের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা উপজেলা। এখানে প্রতিনিয়তই হচ্ছে বিভিন্ন দূর্নীতি,অনিয়মসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড। অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা,নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন,বাজারের ফুটপাত অবৈধ দখল,পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রয়,ফসলি জমির টপ সয়েল থেকে শুরু করে মাটি বেঁচাকেনার হিড়িক চলছে এ উপজেলায়।

এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে অসহায়দের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণে নামে রয়েছে বেশ অনিয়মের অভিযোগ। এতো সবের পরও দোহাই দেয়া হচ্ছে উন্নয়নের। তবে উন্নয়নে নামে কি অনিয়ম অনিবার্য এমন প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছেই।

জানা যায়, গুইমারায় ব্যাপক ভাবে চলছে পাহাড় কাটার মহাৎসব। প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়েই রাতের আধাঁরে চলে এসব অবৈধ ভাবে পাহাড় কর্তন। শুধু রাতের আধাঁর নয় অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে দিনে দুপুরেও চলে অবৈধ পাহাড় কাটা। ছোট-বড় সব ধরনের পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে প্রভাবশালী মহলটি। সাধারণত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দোহাই দিয়েই হয় পাহাড় কাটা।

রাতারাতি গাঁয়ের জোরে এসব পাহাড়ের মাটি বিক্রয় হয় বিভিন্ন ইটভাটায় ও স্থাপনা নির্মাণ কাজে। এভাবে পাহাড় কাটা হলে, আসছে বর্ষার মৌসুমে পাহাড় ধ্বসে ব্যাপক প্রাণহানীর আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। গুইমারার টাউন হলের জায়গায় শ্রমিকদের আবাসস্থল গড়ে তোলা হয়েছে। কে বা কারা তাদেরকে সরকারি ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছে তার সঠিক তথ্য জানে না কেউই। এভাবে প্রতিষ্ঠানটির সরকারি মালামাল ক্ষয়-ক্ষতি হলেও নেই দেখার কেউ। এছাড়াও গুইমারা বাজারের দক্ষিণ পাশে ব্রীজের নিচে ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গাটিও এক প্রভাবশালী সহায়তায় দোকান ঘর নির্মাণ করে প্লট বরাদ্দ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে গুইমারায় সিন্দুকছড়ি, তৈর্কমা, হাফছড়ি, হাতিমুড়া, জালিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নিময়নীতি ও ইজারা বিহীন উত্তোলন করা হচ্ছে হাজার হাজার ঘনফুট বালু। এভাবে বালু উত্তোলন করতে করতে এক পর্যায়ে খালের পার ভেঙ্গে বিলীন হতে শুরু করেছে ফসলি জমি থেকে শুরু করে বসতিও। ক্ষতিগ্রস্থ হবে আশপাশে অসহায় হয়ে পড়ছে বসবাসরত সাধারন মানুষ। তাছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। খাল ও সরকারি জায়গা দখল করেই নির্মাণ হচ্ছে স্থাপনা। এমন চিত্র দেখা যায় জালিয়াপাড়া, বড়পিলাক এলাকায়। প্রভাবশালী মহলের ছত্র-ছায়ায় এসব কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায়, গুইমারায় প্রভাবশালীদের তান্ডবে অবৈধকে বৈধ আর বৈধকে অবৈধ করার মহাৎসব চলছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে যেই কথা বলতে আসবে তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি ও মামলা-হামলা দিয়ে জর্জরিত করার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। তাই এসবের বিষয় কেউ প্রতিবাদ করতে চায় না। সেই সুযোগে সরকারি জায়গা দখলকারী ও বালু উত্তোলনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে দেখা, গুইমারা বাজারের ফুটপাত দখলের চিত্র এখন একটি লক্ষণীয় বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। যত্রতত্র ফুটপাত দখল করে যেখানে সেখানে স্থাপনা ও টং দোকান নির্মাণ করে ফুটপাত দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। এসব অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের তান্ডবে স্থানীয়রা বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় ভুগছেন প্রতিনিয়ত। ফুটপাত দখল করে কাঁচামালের বিভিন্ন পঁচা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছে। আর সেই পঁচা আবর্জনা থেকে রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে আশপাশের এলাকায় ও পথচারীদের মাঝে। তাছাড়া আসছে বর্ষার মৌসুমে এসব আবর্জনা থেকে বিভিন্ন বায়ু দূষিত রোগ ও ডেঙ্গু মশার প্রর্দূভাব দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা আরো বলেন, গুইমারা ঐতিহাসিক সপ্তাহিত দুইদিন শনিবার (ছোট বাজার), মঙ্গলবার (বড় বাজার) বসে। বিশেষ করে এই দুইদিন দুর-দুরান্ত থেকে আসা পরিবহন গুলো বাজারের ফুটপাত দখল ও বেপরোয়া ভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যানযটের মধ্যে পরে, যার ফলে পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যার সম্মূখিন হতে হয়। এমনকি দুর্ঘটনার স্বীকার হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া গুইমারা সদরেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা, ২টি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মহাবিদ্যালয় (কলেজ)। ফুটপাত দখলের জন্য স্কুল কলেজ ছুটি হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে হয়। তাই এসব ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় এলাকাবাসী।

সম্প্রতি গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুকুর খননের নাম করে মাটি বিক্রয়ে মেতে উঠেছে একটি চক্র। প্রকৃত পক্ষে এসব মাটি বিক্রয় হয় বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনা নির্মাণ কাজে। এসব মাটি প্রতি ট্রাক ১ হাজার ৫শত থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রয় করা হয় বলে সূত্রে জানা যায়। প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ কাজ করে থাকে স্থানীয় কিছু দুষ্ট চক্র। এই চক্রের তান্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। শুধু পুকুর নয় ফসলী জমি থেকে মাটি উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে অহরহ। এতোসব অনিয়মের পরও প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করেছে এলাকাবাসী।

এছাড়াও অসহায়দের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণসহ নানা অনিয়ম রয়েছে বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে। নিজস্ব লোকদের মাঝে বিরতণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, প্রকৃত অসহায় যারা তারা সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু অর্থবিত্তের মালিকরা ঠিকই সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। অর্থের বিনিময় আর আত্মীয় স্বজনদের মাঝে সকল সরকারি যা অসহায়দের জন্য বরাদ্দ হয়েছে সেসব বিরতণ করা হচ্ছে।

সচেতন মহল বলেন, গুইমারায় বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে যা দৃশ্যমান। প্রতিটি সেক্টরেই হচ্ছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। নিয়মনীতি ও সরকারি অনুমতি বিহীন পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন, সরকারি সহায়তা প্রদান, ফুটপাত দখলসহ নানান অনিয়ন হচ্ছে যা লক্ষণীয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এর আরো ভয়াবহ রুপ ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তারা।

এসব অনিয়মের বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজিব চৌধুরী জানায়, কোথায় কোথায় অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলন হচ্ছে তার সুনিদিষ্ট তথ্য পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও অনিয়ম ও দূর্নীতিকে ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও তিনি হুশিয়ারী জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
© 2019, All rights reserved.
Developed by Raytahost
error: Content is protected !!